Thursday, 22 October 2015

আক্বীক্বা

আক্বীক্বার আলোচনা পোষ্টটি বড় হলেও মনযোগ দিয়ে পড়ার অনুরোধ রাখছিঃ কুরবানীর একাংশে আক্বীকা দেওয়া প্রসঙ্গে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা রয়েছে,>>>>>
আক্বিকা হচ্ছে আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিত্য-নতুন নিয়ামতের উপর শুকরিয়া আদায় ও নব জাতক শিশুর মুক্তিপণ এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ।
আক্বিকাঃ নবজাতক শিশুর মাথার চুল অথবা সপ্তম দিনে নবজাতকের মাথার চুল ফেলার সময় যবহকৃত বকরীকে আক্বিকা বলা হয়। (আল মুজামুল ওয়াসীত্ব)।
আক্বিকা ও আক্বিকার প্রচলনঃ
বুরায়দা (রাঃ) বলেন, জাহেলী যুগে আমাদের কারও সন্তান ভূমিষ্ট হলে তার পক্ষ হতে একটা বকরী যবহ করা হত এবং তার রক্ত শিশুর মাথায় মাখিয়ে দেওয়া হত। অতঃপর ইসলাম আসার পর আমরা শিশুর জন্মের সপ্তম দিনে বকরী যবহ করি এবং শিশুর মাথা মুন্ডন করে সেখানে যাফরান’ মাখিয়ে দেই’। (আবূ দাউদ)।
রাযীন এর বর্ণনায় এসেছে যে, ঐ দিন আমরা শিশুর নাম রাখি। (মিশকাত হা/৪১৫৮, যবহ ও শিকার অধ্যায়, আক্বিকা অনুচ্ছেদ)।
হুকুমঃআক্বীকা করা সুন্নাত। সাহাবী, তাবেঈ ও ফক্বীহ বিদ্বানগণের প্রায় সকলে এতে একমত। হাসান বছরী ও দাউদ যাহেরী একে ওয়াজিব বলেন। তবে এটি (হানাফী) উলামাগণ একে সুন্নাত বলেন না। কেননা এটি জাহেলী যুগে রেওয়াজ ছিল। কেউ বলেন এটি তাদের কাছে ইচ্ছাধীন বিষয়। (ইবনু কুদামা, আল-মুগনী ৩/৫৮৬; নায়ল ৬/২৬০ পৃষ্ঠা)।
(১) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, সন্তানের সাথে আক্বীক্বা জড়িত। অতএব তোমরা তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত কর এবং তার থেকে কষ্ট দূর করে দাও (অর্থাৎ তার জন্য একটি আক্বীক্বার পশু যবেহ কর এবং তার মাথার চুল ফেলে দাও)। (বুখারী, মিশকাত হা/৪১৪৯ আক্বীক্বা অনুচ্ছেদ)।
(২) তিনি বলেন, প্রত্যেক শিশু তার আক্বীক্বার সাথে বন্ধক থাকে। অতএব জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে পশু যবহ করতে হয়, নাম রাখতে হয় ও তার মাথা মুন্ডন করতে হয়’।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, আহমাদ, ইরওয়া হা/১১৬৫)।
ইমাম খাত্তাবী (রহঃ) বলেন, আক্বীক্বার সাথে শিশু বন্ধক থাকে’- একথার ব্যাখ্যায় ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ) বলেন, যদি বাচ্চা আক্বীক্বা ছাড়াই শৈশবে মারা যায়, তা’হলে সে তার পিতা-মাতার জন্য কিয়ামতের দিন শাফা’আত করবে না’। কেউ বলেছেন, আক্বীক্বা যে অবশ্য করনীয় এবং অপরিহার্য বিষয়, সেটা বুঝানোর জন্য এখানে বন্ধক’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা পরিশোধ না করা পর্যন্ত বন্ধকদাতার নিকট বন্ধক গ্রহিতা আবদ্ধ হয়ে থাকে’। (শাওকানী, নায়লুল আওত্বার ৬/২৬০ পৃঃ ‘আক্বীক্বা’ অধ্যায়)।
শিশুর আক্বিক্বার সময় তাঁর মাথা মুন্ডনকৃত চুলের ওজনে রৌপ্য সাদক্বা করা সুন্নাত। (তিরমিযী, মিশকাত হা/৪১৫৪)।
পশুর ভাগা অংশ দিয়ে আক্বীক্বা করা ।
‘কুরবানী ও আক্বীক্বা দু’টিরই উদ্দেশ্য আল্লাহর নৈকট্য হাছিল করা’ এই (ইহতিসানের) যুক্তি দেখিয়ে কোন কোন হানাফী বিদ্বান কুরবানীর গরু বা উটে এক বা একাধিক সন্তানের আক্বীক্বা সিদ্ধ বলে মত প্রকাশ করেছেন (যা এদেশে অনেকের মধ্যে চালু আছে)। (আশরাফ আলী থানভী, বেহেশতী জেওর (ঢাকাঃ এমদাদিয়া লাইব্রেরী, ১০ম মুদ্রন ১৯৯০) ‘আক্বীক্বা’ অধ্যায়, মাসআ-২, ১/৩০০ পৃঃ; বুরহানুদ্দীন মারগানানী, হেদায় (দিল্লিঃ ১৩৫৮ হিঃ) ‘কুরবানী’ অধ্যায় ৪/৪৩৩ পৃঃ; (দেওবন্দ ছাপা ১৪০০ হিঃ) ৪/৪৪৯ পৃঃ)।
হানাফী মাযহাবের স্তম্ভ বলে খ্যাত ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ) এই মতের বিরোধীতা করেন। ইমাম শাওকানী (রহঃ) এর ঘোর প্রতিবাদ করে বলেন, এটি শরী’আত। এখানে সুনির্দিষ্ট দলীল ব্যতীত কিছুই প্রমাণ করা সম্ভব নয়। (নায়লুল আওত্বার, আক্বীক্বা’ অধ্যায় ৬/২৬৮ পৃঃ)।
বলা আবশ্যক যে, কুরবানীর পশুতে আক্বীক্বার ভাগ নেওয়ার কোন প্রমাণ রাসূলুল্লাহ(ছাঃ) বা সাহাবায়ে কেরামের কথা ও কর্মে পাওয়া যায় না। এটা স্রেফ ধারণা ভিত্তিক আমল, যা হানাফী মাযহাবের দোহাই দিয়ে এদেশে চালু হয়েছে। যদিও ইমাম আবূ হানিফা (রহঃ) থেকে এ বিষয়ে কোন নির্দেশ নেই। (মাসায়েল কুরবানী ও আক্বীক্বা পৃঃ ২০)।
কুরবানী ও আক্বিকার জন্য পৃথক পৃথক পশু হতে হবে। যেমন একটি পশু কুরবানী ও আক্বিকা দুই নিয়্যতে জবেহ করা বাঞ্ছনিয় নয়। (কুরবানীর বিধান পৃঃ ২৪, আব্দুল হামিদ মাদানী)।
সমাজে প্রচলিত কুরবানীর পশুতে আক্বীক্বার নিয়ত করা শরী‘আত সন্মত নয়। রাসূল (ছাঃ) বা সাহাবায়ে কেরামগনের যুগে এধরনের আমলের অস্তিত্ব ছিলনা (নায়লুল আওত্বার ৬/২৬৮,‘আক্বীকা অধ্যায়’;মিরআত২/৩৫১ও৫/৭৫)।
রাসূল (ছাঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি এমন আমল করল যার উপর আমার নির্দেশ নেই সে আমলটি অগ্রহনযোগ্য”। (বুখারী, মুসলিম-৩২৪৩)।
১। পিতার সম্মতিক্রমে অথবা তার অবর্তমানে দাদা, চাচা, নানা, মামা যেকোন অভিভাবক আক্বীকা দিতে পারেন। হাসান ও হোসাইনের পক্ষে তাদের নানা রাসূল (ছাঃ) আক্বীক্বা দিয়েছিলেন। (আবূ দাউদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/৪১৫৫)।
৭দিনের পরে ১৪ ও ২১ দিনে আক্বীক্বা দেওয়ার ব্যাপারে বায়হাক্বী তাবারানী ও হাকেমে বুরাইদা ও আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস তাহক্বীকে শায়খ আলবানী যঈফ বলেছেন।
তবে সহীহুল জামে হা/৪১৩২ নম্বর, উদ্দাহ ৩০০ পৃষ্ঠা, শিশু প্রতিপালন, আঃ হামিদ আল মাদানী পৃষ্ঠা-১৭ তে উল্লেখ করা হয়েছে, শিশু জন্মের সপ্তম দিনে, সম্ভব না হলে, ১৪তম দিনে, তাও সম্ভব না হলে ২১ম দিনে আক্বিকা দেওয়া যাবে। এবং তাও সম্ভব না হলে, তারপর যেকোন দিনে আক্বিকা দেওয়া সুন্নাত। হাসান বসরী বলেন, তোমার তরফ থেকে আক্বিকা না হয়ে থাকলে, তুমি বড় হয়ে গেলেও নিজেই আক্বিকা দাও। (মুহাল্লা ৮/৩২২, সিলসিলাহ সহীহা ৬/৫০৬)।
উল্লেখ্যঃ নবুয়্যত লাভের পর রাসূল (ছাঃ) নিজের আক্বীক্বা নিজে করেছিলেন বলে বায়হাক্বীতে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি ‘মুনকার’ বা যঈফ। (নায়লুল আওত্বার ৬/২৬৪)।
এ বিষয়ে এটাই প্রমাণিত যে, তার জন্মের সপ্তম দিনে তার দাদা আব্দুল মুত্ত্বালিব তার আক্বীক্বা করেন এবং ‘মুহাম্মদ’ নাম রাখেন। (বায়হাক্বী, দালায়েলুন নবুয়্যত ১/১১৩; সোলাইমান মানসুরপুরী, রহুমাতুল্লিল আলামিন ১/৪১ পৃঃ)।
শাফেঈ বিদ্বানগণের মতে আক্বীক্বার বিষয়টি সীমা নির্দেশ মূলক নয়। ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ সাত দিনের পরে আক্বীক্বা করবে না। যদি কোন কারণে বিলম্ব হয় এমনকি সন্তান বালেগ হয়ে যায় তাহলে তার পক্ষে তার অভিভাবকের আক্বীক্বার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় সে নিজের আক্বীকা নিজে করতে পারবে। (নায়লুল আওত্বার ৬/২৬১ পৃঃ)।
সহীহ দলীল হচ্ছে সপ্তম দিনেই আক্বীক্বা দিতে হবে। এটাই সুন্নাত। (আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, ইরওয়া হা/১১৬৫; মিশকাত হা/৪১৫৮)।
আক্বিকার দিন (ছেলে) শিশুর মাথা নাড়া করে মাথায় জাফরান গুলানো বিধেয়। (আবু দাউদ ২৮৪৩, হাকেম ৪/২৩৮, বায়হাক্বী ৯/৩০৩)।
আক্বীক্বার পশু কেমন হবেঃ
মহিলারা ৫টি বিষয়ে পুরুষের অর্ধেক উত্তরাধিকার, হত্যার দিয়ত তথা জরিমানা, সাক্ষ্য প্রদান, আক্বীক্বা এবং আজাদের ব্যাপারে। (তোয়াইজিরী, কোরআন হাদীসের আলোকে ইসলামী ফিকাহ ২/৩০২ পৃষ্ঠা, বঙ্গঃ)।
যেহেতু ছেলে হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় নিয়ামত ও অনুগ্রহ, তাই তার ক্ষেত্রে শুকরিয়া বড় হওয়া চাই। বিধায় সেক্ষেত্রে ২টি ছাগল ও মেয়ের ক্ষেত্রে ১টি ছাগল প্রযোজ্য।
(১) রাসুলুল্লাহ বলেন, ‘ছাগ হৌক বা ছাগী হৌক, ছেলের পক্ষ থেকে দু’টি ও মেয়ের পক্ষ থেকে একটি আক্বীক্বা দিতে হয়’। (নাসাঈ তিরমিযী, আবূ দাউদ, ইবনু মাজাহ মিশকাত হা/৪১৫২,৪১৫৬; ইরওয়া হা/১১৬৬)।
পুত্র সন্তানের জন্য দু’টি দেওয়া উত্তম। তবে একটা দিলেও চলবে।
(আবূ দাউদ, মিশকাত হা/৪১৫৫; নায়লুল আওত্বার ৬/২৬২,২৬৪ পৃঃ)।
ছাগল দু’টিই কুরবানীর পশুর ন্যায় ‘মুসিন্নাহ’ অর্থাৎ দুধে দাঁত ভেঙ্গে নতুন দাঁতওয়ালা হ’তে হবে এবং কাছাকাছি সমান স্বাস্থ্যের অধিকারী হ’তে হবে।
এমন নয় যে, একটি মুসিন্নাহ হবে অন্যটি মুসিন্নাহ নয়।
(নায়লূল আওত্বার ৬/২৬২ পৃঃ, আয়নুল মা’বুদ হা/২৮১৭-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)।
একটি খাসী ও অন্যটি বকরী হওয়ায় কোন দোষ নেই।
শায়খ আঃ রায্যাক বিন ইউছুফ বলেন, গরু,উট দিয়ে আক্বিকা হবে না। (পিস টিভি আলোচক)।
(২) তাবারানীতে উট, গরু বা ছাগল দিয়ে আক্বীক্বা করা সম্পর্কে যে হাদীস এসেছে, তা মওযু’ অর্থাৎ জাল। (আলবানী, ইরওয়াল গালীল হা/১১৬৮)।
তাছাড়া এ বিষয়ে রাসূল (ছাঃ) ও সাহাবায়ে কেরাম থেকে কোন আমল নেই।
(মাসায়েল কুরবানী ও আক্বীক্বা পৃঃ ৪৯)।
কোনো কোনো উলামা বলেন, যদি দিতেই হয় তবে একটি করেই দিতে হবে। যেমন, আহকাম ও বয়স এবং গুনাগুনে আক্বীক্বা কুরবানীর মতই। কিন্তু আক্বীক্বাতে ভাগা চলবে না। তাই একজনের পক্ষ থেকে ১টি ছাগল/গরু/উট ছাড়া সঠিক হবে না।
(কোরআন সুন্নাহর আলোকে ইসলামী ফিকাহ পৃষ্ঠা-২/৩০২, মোহাম্মদ বিন ইব্রাহীম আত তোয়াইজিরী)।
গোশত বিতরণঃ আক্বিকার গোশত বিতরণ কুরবানীর মতই।
গোশত কাঁচা বিতরণ করার চাইতে রান্না করে খাওয়ানোটাই উত্তম। আর পশুর চামড়াটা বিক্রয় করে তার মুল্য গরীবকে দান করা উচিত। (আঃ হামিদ মাদানী, শিশু প্রতিপালন পৃষ্ঠা নং-১৭)।
কুরবানীর একাংশে আক্বীকা দেওয়া প্রসঙ্গ
লেখক: শাইখ আব্দুর রাকীব (মাদানী) সম্পাদক: শাইখ আব্দুল্লাহিল হা��
আল্ হামদুলিল্লাহি রাব্বিল্ আলামীন, ওয়াস্ স্বালাতু ওয়াস্ সালামু আলা রাসূলিহিল্ কারীম। আম্মা বাদঃ
অতঃপর কুরবানীর সময় আমরা আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত আমল দেখতে পাই, তা হচ্ছে, গরু কিংবা উট কুরবানী দেয়ার সময় তাতে সন্তানের আক্বীকা দেওয়া। বিষয়টির ব্যাখ্যা এই রকম যে, যেহেতু একটি গরু কিংবা উটে সাতটি ভাগ প্রমাণিত। অর্থাৎ সাত ব্যক্তি শরীক হয়ে কুরবানী দিতে পারে এবং সেটি সাত জনের পক্ষে স্বীকৃত। তাই কোন কুরবানীদাতা যদি কুরবানীর উদ্দেশ্যে একটি গরু বা উট ক্রয় করে, অতঃপর তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা যদি ৪ কিংবা ৫ কিংবা ৬য় হয়, তাহলে সে অতিরিক্ত ভাগগুলিতে কুরবানীর নিয়ত না করে সেই সকল সন্তানের আক্বীকার নিয়ত করে, যাদের সে নির্দিষ্ট সময়ে আক্বীকা দেয় নি বা দিতে পারে নি। তাই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতঃ কুরবানীর একই পশুতে আক্বীকাও করে। আমরা এই আমলটি প্রায় দেখতে পাই। এখন প্রশ্ন হল, এই রকম করা কি শরীয়ত স্বীকৃত, এটা কি সহীহ দলীল সম্মত? আমরা এ স্থানে এ সম্পর্কে কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করবো। [ওয়ামা তাউফীকী ইল্লা বিল্লাহ ]
***********************************************************
বিষয়টির প্রামাণিকতা:***** আসলে বিষয়টির সম্পর্কে কোন হাদীস পাওয়া যায় না । এমনকি সাহাবাগণের আমলও পরিলক্ষিত হয় না। তাই বলা যেতে পারে মাস্আলাটি পুরোপুরি ইজতেহাদী মাস্আলা। অর্থাৎ ইসলামের মুজতাহিদ উলামাগণের গবেষণা দ্বারা স্বীকৃত, যা ফিক্হ গ্রন্থ সমূহে বর্ণিত হয়েছে। এই রকম বিষয়ে আমরা কোন গবেষককে (মুজতাহিদকে) দোষারোপ করতে পারি না। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: “ফয়সালাকারী যখন বিধান প্রণয়নে গবেষণা মূলক প্রয়াস করে এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে তখন তার জন্য দুটি সওয়াব নির্ধারিত হয়, আর সিদ্ধান্তে ভুল হলে একটি সওয়াবের অধিকারী হয়’’। [বুখারী মুসলিম] তবে চোখ বন্ধ করে কোন একটির অনুসরণও করা যায় না; কারণ হক্ব কোন একটি মতের সাথে রয়েছে, সবার সাথে না। তাই যেই মতটি কিতাব ও সুন্নতের বেশী কাছাকাছি আমরা সেটিই গ্রহণ করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আপত্তি স্বরূপ কেউ বলতে পারে, কোন্ মতটি দলীল-প্রমাণের বেশী নিকটে সেটা তো সেই মুজতাহিদগণই বেশী অবগত ছিলেন? আমি বলবো তাহলে তাদের মতভেদ কেন হল? তাছাড়া যখন আমরা তাদের সকলের গবেষণা এক স্থানে তুলে ধরবো, তখন কোন্ মতটি বেশী দলীল সম্মত আমাদের তৃতীয় পক্ষের নিকট ফুটে উঠবে। ইনশাআল্লাহ।
&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&
গবেষক উলামাগণের মতামত এবং দলীলাদিঃ
একটি গরু কিংবা উটের ৭ ভাগের মধ্যে কয়েকটি ভাগ কুরবানীর উদ্দেশ্যে এবং অন্যটি আক্বীকার নিয়তে যবাই করা জায়েয কি জায়েয নয়, এ বিষয়ে উলামাগণ মতভেদ করেছেন।
১- হানাফী, শাফেয়ী এবং হাম্বালী মাযহাবের এক বর্ণনা অনুযায়ী এই রকম করা জায়েয।
এই মতের যুক্তি সমূহঃ
হানাফী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থে বিষয়টির সম্পর্কে উল্লেখ হয়েছে যে, উভয়ের উদ্দেশ্য ‘কুরবাহ’ অর্থাৎ আল্লাহর নৈকট্য লাভ তাই এইরকম করা জায়েয। তারা এই মতের ব্যাখ্যায় বলেনঃ যেমন কেউ যদি গরু কিংবা উটের এক ভাগে কুরবানীর নিয়ত করে, অন্য কেউ দ্বিতীয় ভাগে ইহরাম অবস্থায় শিকার করার কাফ্ফারার নিয়ত করে, কেউ অন্য ভাগে নফল কুরবানীর নিয়ত করে, আর কেউ অন্য ভাগে হজ্জে তামাত্তু কিংবা কিরান হজ্জের কুরবানীর নিয়ত করে, তাহলে এটা যেমন জায়েয, তেমন কুরবানীর সাত ভাগের এক ভাগে আক্বীকার নিয়তও জায়েয। শর্ত হচ্ছে, সকল অংশীদারের নিয়ত যেন আল্লাহর নৈকট্য হয়, গোস্ত খাওয়া কিংবা অন্য উদ্দেশ্য না হয়। [ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ,৫/৩০৪, বাদাইউস্ সানাঈ,৫/৭২]
শাফেয়ী মাযহাবের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থে উল্লেখ হয়েছে,
” و لو ذبح بقرة أو بدنة عن سبعة أولاد أو اشترك فيها جماعة جاز سواء أرادوا كلهم العقيقة أو أراد بعضهم العقيقة و بعضهم اللحم كما سبق في الأضحية “
“আর সে যদি একটি উট কিংবা গাভী সাত সন্তানের পক্ষ্ হতে যবাই করে কিংবা এক গোষ্ঠি তাতে শরীক হয় তো জায়েয। চাই তারা সকলে আক্বীকার ইচ্ছুক হোক কিংবা কিছু লোক আক্বীকার এবং অন্যরা গোস্ত খাওয়ার উদ্দেশ্য রাখুক, যেমন কুরবানীর অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে’’। [আল্ মাজমু, নওয়াভী,৮/৪২৯, নেহাইয়াতুল্ মুহতাজ, রামলী,৮/১৪৬, ফাতাওয়া ফিকহিয়্যাহ কুবরা, হায়ছামী,৪/২৫৬]
এই মতের পর্যালোচনাঃ এই মতের পর্যালোচনা স্বরূপ বলা সঙ্গত হবেঃ
ক- প্রথমে এটা প্রমাণের প্রয়োজন আছে যে, গরূ কিংবা উট দ্বারা আক্বীকা বৈধ কি বৈধ নয়। আর যদি সেটাই প্রমাণিত না হয় তাহলে কুরবানীর উট-গরুর একাংশে আক্বীকা তো পরের প্রশ্ন।
খ- শুধু নৈকট্যের নিয়ত থাকলেই যে গরু-উটের কোনো ভাগে আক্বীকা দেওয়া জায়েয তা যথেষ্ট নয়। কারণ ইবাদতের ক্ষেত্রে যেমন আল্লাহর নৈকট্যের উদ্দেশ্য জরূরী, তেমন নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর ‘মুত্বাবাআহ’ অনুসরণ জরূরী, যেটা ইবাদত কবুলের দ্বিতীয় শর্ত। এখানে একাধিক শরীকের মধ্যে নৈকট্যের উদ্দেশ্য থাকলেও নবীর অনুসরণ নেই। অর্থাৎ কুরবানীর পশুতে আক্বীকা দেওয়ার কোন প্রমাণ নেই।
গ- কুরবানীর একাংশে আক্বীকা দেওয়া জায়েয, এই মন্তব্যের পিছনে হানাফী মাযহাবে যে সব উদাহরণ পেশ করা হয়েছে সে সবই হজ্জ ও হজ্জের ভুল-ত্রুটির সাথে সম্পৃক্ত। আর হজ্জের এই সব ক্ষেত্রে শরীক সাব্যস্ত। তাই সে সবের উপর কিয়াস (অনুমান) করে আক্বীকাকে তার সাথে সম্পৃক্ত করা অসঙ্গত।
ঘ- আক্বীকা একটি ইবাদত যার সময়-কাল ও উদ্দেশ্য স্বতন্ত্র। অনুরূপ কুরবানীও একটি স্বতন্ত্র ইবাদত যার সময়-কাল ও উদ্দেশ্য নির্ধারিত। কিন্তু উভয়কে একত্রীকরণে উভয়ের সময় ও উদ্দেশ্য তথা উভয় ইবাদতকে একীকরণ করা হয়, যা নিঃসন্দেহে ভুল তথা শরীয়তে হস্তক্ষেপ।
হাম্বলী মাযহাবের যেই মতানুযায়ী এটা বৈধ তার বর্ণনাঃ
উট-গরুর একাংশে আক্বীকা হওয়া সম্পর্কে হাম্বালী মাযহাবে দুটি মত রয়েছে। এই রকম করা জায়েয নয়, এটিই তাদের অধিকাংশ উলামাগণের মত, যা সামনে বর্ণিত হবে। কিন্তু বৈধ বলে যেই বর্ণনাটি রয়েছে তাদের যুক্তির সারাংশ হচ্ছেঃ যেমন কোনো ব্যক্তি যদি এমন সময় মসজিদে প্রবেশ করে, যে সময় দুই রাকাআত সুন্নতে মুআক্কাদার সময় এবং তাহিয়্যাতুল মসজিদেরও সময়। যেমন ফজরের ফরযের পূর্ব সময়। এই সময় সে যদি এক সাথে তাহিয়্যাতুল মসজিদ ও ফজরের দুই রাকাআত সুন্নতে মুআক্কাদার নিয়তে নামায পড়ে, তাহলে যেমন দুই নামায এক সাথে আদায় হয়ে যায়। অনুরূপ এক সাথে জানাবাত (বড় নাপাকী) এবং জুমআর গোসলের নিয়ত করলে, যেমন দুটি আমল আদায় হয়ে যায়, তেমন আক্বীকা ও কুরবানী এক সাথে দিলে উভয় ইবাদত আদায় হয়ে যাবে এবং বৈধ হবে।
পর্যালোচনাঃ
ক- আসলে উপরোক্ত নামায, গোসল এবং এইরূপ অন্য আমল একত্রে উভয়ের নিয়তে একটি সম্পাদন করলে দুটিই আদায় হওয়া এবং কুরবানীর কোন ভাগে আক্বীকা দেওয়া, দুটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়। কারণ সেই সব আমলের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, দুটি সম স্তর ও একই রূপ-রেখার আমল একই সময়ে আকষ্মিক ভাবে অর্থাৎ আমলকারীর অনিচ্ছায় একত্রিত হয়ে গেছে। তাই একটি সম্পাদনের মাধ্যমে দুটি আমল সিদ্ধ হয়েছে। কিন্তু আলোচ্য বিষয়ে আমরা আক্বীকাকে তার নিজ সময়ে অর্থাৎ ৭ কিংবা ১৪ কিংবা ২১ তারিখে না করে ইচ্ছাকৃতভাবে কুরবানীর সময়ে দিচ্ছি যখন বাচ্চার বয়স কয়েক বছর হয়ে গেছে বা কম করে হলে আক্বীকার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে। তাই তাদের এই সকল যুক্তি বা দলীল আলোচ্য বিষয়ের বাইরে। হ্যাঁ এই মতের দলীলাদি তখন স্বস্থানে হত, যদি কুরবানীর দিনে নবজাতকের বয়স ৭ কিংবা ১৪ কিংবা ২১ হত। তখন প্রশ্ন আসতো যে, এই সময় তাহলে কুরবানী ও আক্বীকার নিয়তে একটি পশু যবাই করলে উভয় বিধান আদায় হবে কি না? অনেকে দুটি বিষয়কে সংমিশ্রণ করে দিয়েছে। তাই বলা যেতে পারে হাম্বলী মাযহাবের এই মতটি আলোচ্য বিষয়ে নয় তাই তা গ্রহণীয় ও নয় ।
তাছাড়া এক নিয়তে দুই ইবাদত সম্পাদন হওয়ার বিষয়টি উলামাদের নিকট সর্বজন স্বীকৃত বিষয় নয়। বরং অনেকে এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন।
যত দূর তাহিয়্যাতুল মসজিদ এবং সুন্নতে মুআক্কাদা এক সাথে আদায় হওয়ার বিষয়, তা আসলে সুন্নতে মুআক্কাদা পড়লে তাহিয়্যাতুল মসজিদ হয়েই যায়, যদিও নামায আদায়কারী তার নিয়ত না করে। কারণ তাহিয়্যাতুল মসজিদ মানে মসজিদের সম্মান। আর সেটা যে কোন সুন্নত নামাযের মাধ্যমে আদায় হয়ে যায়।
২- মালেকী এবং হাম্বলী মাযহাবের দ্বিতীয় বর্ণনানুযায়ী একই পশুতে কুরবানী ও আক্বীকা জায়েয নয়।
মালেকী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থে উল্লেখ হয়েছেঃ
قال شيخنا أبو بكرالفهري إذا ذبح أضحيته للأضحية والعقيقة لا يجزيه و إن أطعمها وليمة أجزأه والفرق أن المقصود في الأولين إراقة الدم و إراقته لاتجزئ عن إراقتين والمقصود من الوليمة الإطعام وهوغير مناف للإراقة فأمكن الجمع انتهى.
“আমাদের শাইখ আবু বকর ফিহরী বলেনঃ যদি সে তার কুরবানীকে কুরবানী ও আক্বীকার উদ্দেশ্যে যবাই করে, তাহলে সেটা যথেষ্ট হবে না। তবে যদি তা অলীমা স্বরূপ খাওয়ায় তাহলে যথেষ্টে হবে। পার্থক্যের কারণ প্রথম দুইয়ের (কুরবানী ও আক্বীকার) উদ্দেশ্য রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি। তাই একটি রক্ত প্রবাহ দুটি প্রবাহের জন্য যথেষ্ট হবে না। আর অলীমার উদ্দেশ্য খাদ্য খাওয়ানো। আর তা রক্ত প্রবাহের বিরোধী নয় তাই কুরবানীর সাথে তা একত্রীত করা সম্ভব’। [ মাওয়াহিবুল জালীল, হাত্তাব, ৪/৩৯৩]
হাম্বালী মাযহাবে উল্লেখ হয়েছেঃ
والمذهب أنه لا يجزئ فيها شرك في دم و لايجزئ إلا بدنة أو بقرة كاملة
“মাযহাব হল, তাতে (আক্বীকাতে) অংশী জায়েয নয় এবং পূর্ণাঙ্গ একটি উট কিংবা গাভী ব্যতীত তা যথেষ্ট নয়।” [মুবদি, বুরহানুদ্দীন, ৩/২২৫]
এই মতের মন্তব্যঃ
আক্বীকা ও কুরবানী উভয়ে স্বতন্ত্ররূপে কাম্য। তাই কোন একটি উভয়ের জন্য যথেষ্টে হবে না এবং উভয়ের কারণও ভিন্ন ভিন্ন যেমন, কুরবানী হচ্ছে জীবনের মুক্তিপণ আর আক্বীকা হচ্ছে সন্তান লাভে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সন্তানপণ। তাই একটি অপরটির অন্তর্ভুক্ত হবে না।
রাজেহ বা অগ্রাধিকার প্রাপ্ত মতঃ
মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের দ্বিতীয় মতটি রাজেহ তথা অধিক গ্রহনযোগ্য মত। কারণ সমুহ নিম্মে দেখা যেতে পারে:
১- যেহেতু বিষয়টির সম্পর্ক ইবাদতের সাথে আর ইবাদতের মূলণীতি হচ্ছে ‘তাওক্বীফিয়্যাহ’। অর্থাৎ কোনো ইবাদত ততক্ষণে বৈধ নয় যতক্ষণে প্রমাণ না পাওয়া যায়। তাই এই রকম বিষয়ের বৈধতা সম্পর্কে শরীয়তের দলীল-প্রমাণ জরূরী। কিন্তু বৈধতার পক্ষ্য না তো কুরআনে কিছু বলা হয়েছে, আর না কোনো হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এমনকি সাহাবীগণের কোন আমলও পাওয়া যায় না। তাই এই রকম ক্ষেত্রে কুরবানীর কোনো ভাগে আক্বীকা দেওয়া দলীল বর্হিভূত।
২- আক্বীকার অধ্যায়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা অবলকন করলে দেখা যায় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্রাম) ছাগল-দুম্বা ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা আক্বীকা দেন নি। তাই গরু দ্বারা আক্বীকা দেয়ার সম্পর্কে ইসলামী পন্ডিতগণ মতভেদ করেছেন। আর যেই বিষয়ে মুজতাহিদগণের মতভেদ বিদ্যমান, সেই মাস্আলার উপর কিয়াস (অনুমান) করে কোনো বিষয়ের বৈধ বা অবৈধতার বিধান দেওয়া মুজতাহিদগণের দৃষ্টিতে নিষেধ। উসূলে ফিকহের পরিভাষায় যার উপর কোনো মাস্ আলাকে কিয়াস করা হয়, তাকে বলে ‘আস্ ল’। আর যে বিষয়গুলিকে কিয়াস করা হয়, তাকে বলে ‘ফারউ’। আস্ লের প্রথম শর্তই হলঃ
أن يكون الأصل ثابتا بنص من الكتاب أو السنة أو ا لإجماع
অর্থাৎ, আসল যেন কিতাব কিংবা সুন্নত কিংবা ইজমার দলীল দ্বারা প্রমাণিত হয়। [শারহু মাখ্তাসারির রাউদা, তূফী,৩/২৯২]
এখন গরু-উট দ্বারা আক্বীকা দেওয়ার মধ্যেই যদি মতভেদ থাকে, তাহলে কুরবানীর গরু বা উটের একাংশে আক্বীকা দেওয়া কি ভাবে বৈধ হতে পারে ?
৩- বৈধতার পক্ষে হানাফী মাযহাবের এই যুক্তি যে, এ সবের উদ্দেশ্য যেহেতু ‘কুরবাহ’ বা নৈকট্য, তাই জায়েয। কিন্তু বিড়ম্বনা হল, তাদের নিকট আক্বীকা বিদআত। ইমাম শাফেয়ী (রহ) বলেনঃ ‘দুই ব্যক্তি এ বিষয়ে সীমালঙ্ঘন করেছে। একজন আক্বীকাকে বিদআত বলেছে আর অপরজন ওয়াজিব বলেছে’। তিনি বিদআত বলেছে বলে ইমাম আবু হানীফার (রহ) এর দিকে ইঙ্গীত করেন। [ মাজমূ, নাওয়ভী, ৩/৩৫৬, ফাতহুল বারী, ৯/৭২৮]
হানাফী মাযহাবের মুতাআখখেরীন বা পরবর্তী যুগের ফুকাহাগণ কেউ আক্বীকাকে মাকরূহ আর কেউ মুবাহ বলেছেন। [বাদাইয়ূস্ সানাই, কাসানী ৫/১২৭] কিন্তু তাদের নিকট কুরবানী ওয়াজিব বা জরূরী। আক্বীকা বিদআত কিংবা মাকরুহ কিংবা মুবাহ হলে তো ‘কুরবাহ’ প্রমাণিত হয় না। কারণ বিদআত হারাম । মুবাহ অর্থ, যা করা বা না করাতে সওয়াব বা গুনাহ নেই। আর মাকরূহ তাহরীমী হলে, তা নাজায়েয আর যদি তা তানযীহী হয় তো তা করা অপছন্দনীয়, না করা উত্তম করলে গুনাহ হয় না। তাই তাদের মাযহাব অনুযায়ীও তো আক্বীকা ‘কুরবাহ’ প্রমাণিত হয় না। আর কুরবাহ প্রমাণিত না হলে ওয়াজিবের মত একটি ইবাদতে অকুরবার সংমিশ্রণ মাযহাব অনুযায়ী ও অবৈধ।
৪- আক্বীকার সময়সীমা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম০ বলেনঃ
كُلُّ غُلامٌ مُرْتَهَنٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ الْيَوْمَ السَّابِعَ وَ يُمَاطُ عَنْهُ الأَذَى.
“ প্রত্যেক বাচ্চা তার আক্বীকারর বিনিময়ে বন্ধক থাকে, সপ্তম দিনে তার পক্ষ্য হতে জবাই করা হবে এবং তার মাথা মুণ্ডণ করা হবে’’। [সহীহ ইবনু মাজাহ, অধ্যায়, যাবাইহ, নং ৩১৬৫/আবু দাউদ/তিরমিযী/নাসাঈ]
এই তারিখে সম্ভব না হলে ১৪ কিংবা ২১ তারিখে করতে বলেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
” تذبح لسبع أو لأربع عشرة أو لإحدى و عشرين” [ صحيح الجامع الصغير، رقم 4011 ]
“সপ্তম দিনে যবাই করা হবে কিংবা ১৪তম দিনে কিংবা ২১তম দিনে”। [ সহীহ জামে স্বাগীর, নং ৪০১১]
এখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক আক্বীকার নির্ধারিত সময়ে আক্বীকা না করে কুরবানীর সময় সন্তানের আক্বীকা দেওয়া বর্ণিত হাদীস সমূহের বিপরীত। আমাদের জানা উচিৎ যে, কোন ইবাদতের ক্ষেত্রে বিধানদাতা (শারে) যখন সময় নির্ধারণ করে দেন, তখন তার অবশ্যই কোন উদ্দেশ্য থাকে নচেৎ সময় নির্ধারণ করা হত না। যেমন কুরবানীর সময়-কাল নির্ধারিত। এখানে যেমন কুরবাণীটি উদ্দেশ্য তেমন নির্ধারিত সময়ও উদ্দেশ্য। তাই কোন এক সাহাবী নামাযের পূর্বে কুরবানী করলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম) তাকে নামাযের পর পুনরায় কুরবানী করতে বলেন।
মোট কথা আক্বীকাকে নিজ সময়ে না করা হলে যেমন সুন্নত পালন হয় না, তেমন শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত সময় অর্থহীন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে অসময়ে কুরবানীতে আক্বীকা দেওয়ার সুযোগ খোঁজা হয়। বেইনসাফী হবে না, যদি আমি বলি যে, এই অপ্রমাণিত ফাতওয়ার কারণে হানাফী সমাজে সন্তানের আক্বীকার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের উদাসীন দেখা যায়। কারণ তারা যথা সময়ে আক্বীকা না করে কুরবানীতে আক্বীকা দিতে চায়।
ফল কথা, কুরবানীর একাংশে আক্বীকা দেওয়া শরীয়তের দলীল দ্বারা স্বীকৃত নয়, তাই এই আমল করা অনুচিৎ। আর যারা কিছু বিষয়ের উপর কিয়াস (অনুমান) করে বৈধতার কথা বলেছেন, তাদের কিয়াসও ফাসেদ ত্রুটিপূর্ণ। ওয়াল্লাহু তাআলা আ’লাম।
আপনাদের দুআর আশাবাদী, আব্দুর রাকীব (মাদানী) অনার্স, ফিকহ, মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়। দাঈ, ইসলামিক দাওয়াত সেন্টার, খাফজী, (সউদী আরব) উৎস :

Saturday, 26 September 2015

হজ্জ্বের পর হাজী সাহেবের করণীয় কি?


হজ্জ্বের পর হাজী সাহেবের করণীয় কি? সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, যাঁর নেয়ামতেই সকল সৎকাজসমূহ সম্পন্ন হয়ে থাকে, আর তাঁর দয়াতেই সকল ইবাদাত কবুল হয়ে থাকে। আমরা তাঁর প্রশংসা করছি, তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি, আর এ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোন হক মা‘বুদ নেই এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ্ তার উপর, তার পরিবার ও সঙ্গী সাথীদের উপর দুরুদ প্রেরণ করুন এবং বহু পরিমানে সালাম পেশ করুন। তারপর,হজ্ গত হল, তার কার্যাদি পূর্ণ হলো, আর হজের মাসসমূহ তার কল্যাণ ও বরকত নিয়ে চলে গেল। এ দিনগুলো অতিবাহিত হলো, আর মুসলিমগণ তাতে তাদের হজ সম্পাদন করল,তাদের কেউ আদায় করল ফরয হজ্, অপর কেউ আদায় করল
নফল হজ্, তাদের মধ্যে যাদের হজ কবুল হয়েছে তারা তাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে নিয়ে এমন দিনের মত প্রত্যাবর্তন করল যেমন তাদের মাতাগণ তাদেরকে জন্ম দিয়েছিল। সুতরাং সফলকামদের জন্য রয়েছে মুবারকবাদ।
যাদের থেকে তা গ্রহণযোগ্য হয়েছে তাদের সৌভাগ্যই সৌভাগ্য!আল্লাহ তো কেবল মুত্তাকীদের পক্ষ থেকেই কবুল করে থাকেন”।[1]প্রত্যেক মুসলিমের জানা উচিত যে, নেক আমল কবুল হওয়ার কিছু চিহ্ন ও কিছু নিদর্শন রয়েছে। নেক আমল কবুল হওয়ার
অন্যতম চিহ্ন হচ্ছে সে আমলের পরে আবার আমল করতে সমর্থ হওয়া, পক্ষান্তরে সে আমল প্রত্যাখ্যাতহওয়ার চিহ্ন হচ্ছে, সে আমল করার পর খারাপ কাজ করা।সুতরাং যখন হাজী সাহেব হজ থেকে প্রত্যাবর্তন করবেন
এবং তাঁর নিজকে দেখতে পাবেন যে তিনি আল্লাহ্ তা‘আলার আনুগত্যের প্রতি অগ্রণী, কল্যাণের প্রতি অনুরাগী,দ্বীনের প্রতি দৃঢ়, অপরাধ ও গোনাহ থেকে দূরে অবস্থানকারী, তখন সে যেন বুঝে নেয় যে আল্লাহ চাহেত এটি আল্লাহ তা‘আলার নিকট তার আমল কবুল হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত।
আর যদি নিজকে আল্লাহর আনুগত্য থেকে পিছপা দেখতে পায়, কল্যাণের কাজ থেকে বিমুখ, অপরাধের প্রতি প্রত্যাবর্তনকারী ও গোনাহের কাজে অগ্রণী, তবে সে যেন বুঝে নেয় যে, এসব কিছু সঠিকভাবে নিজেকে নিয়ে ভাবার অবকাশ দিচ্ছে।হে বাইতুল্লাহর হজকারী, আপনি সে সব সম্মানিত দিনগুলো অতিবাহিত করেছেন, আর পবিত্র স্থানগুলোতে অবস্থান
করেছেন, সুতরাং আপনার এ কাজ যেন হিদায়াতের পথ ও হকের রাস্তায় চলার নতুন মোড় হয়ে দেখা দেয়।হে আল্লাহর আহ্বানে সাড়াদানকারী, আপনি হজে সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে তালবিয়া পাঠ করেছেন এবং ডেকেছেন, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ সুতরাং সর্বদা প্রতিটি কাজে আল্লাহর জন্য হাজির থাকতে সচেষ্ট থাকুন। তাঁর আনুগত্যে সর্বদা রত থাকুন; কেননা, যিনি হজের মাসের রব,তিনি অন্য মাসেরও রব, আর আমরা আমৃত্যু আল্লাহর কাছে সাহায্য ও একমাত্র তাঁরই ইবাদত করতে নির্দেশিত হয়েছি।আর আপনার রবের ইবাদত করুন, যতক্ষণ না আপনার কাছে মৃত্যু আসবে।”[2]কল্যাণের মওসুম হে মুসলিম ভাই, মানব জীবনের সাময়িক পরিবর্তন নয়; বরং তা খেল-তামাশা অন্যায়-অবিচার ও ত্রুটি-বিচ্যুতির
জীবন থেকে আল্লাহ তা‘আলার পূর্ণ আনুগত্য ও তাঁর দাসত্বের দিকে প্রত্যাবর্তন।কল্যাণের মওসুম এরকম কোন স্টেশনের নাম নয় –
যেমনটি কোন কোন মানুষ মনে করে থাকে- যেখানে কোন মানুষ তার ভার লাঘব করবে, তার গোনাহ থেকে পরিত্রাণ নিবে, তারপর সেখান থেকে ফিরে গিয়ে পুণরায় অন্য কোন বোঝা নতুন করে বহন করবে। এটি
নিঃসন্দেহে ভুল বুঝা। যারা এ ধরনের কিছু বোঝে তারা অবশ্যই এ মওসুমগুলোর বাস্তবতা উপলব্ধি করতে ভুল করেছে। বরং এ মওসুমগুলো গাফেলদের সাবধান করার
সুযোগ ও ত্রুটি-বিচ্যুতিকারীদের জন্য উপদেশ; যাতে তারা তাদের গুনাহসমূহ থেকে বিরত হয়ে, তাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হয়ে, ভবিষ্যতে সেগুলো পরিত্যাগ করার উপর দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যায়;আর নিশ্চয় যারা তাওবাহ করে, ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে
তারপর হিদায়াত গ্রহণ করে আমি তাদের জন্য অধিক ক্ষমাশীল।3]অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ তাদের নফসের প্রবঞ্চনা ও শয়তানের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পড়ে থাকে; এমনকি
শেষ পর্যন্ত এ অবস্থাতে তাদের মৃত্যু হয়।
সুতরাং হে আল্লাহর ঘরের হজকারী! আপনি তার মত হবেন না যে মজবুত প্রাসাদ নির্মাণ করে সেটার ভিত্তিমুলে আঘাত করে।
“তার মত যে তার সূতা মজবুত করে পাকাবার পর সেটার পাক খুলে নষ্ট করে দেয়।”[4]
কিছু মারাত্মক বিষয় রয়েছে যার জন্য প্রতিটি মুসলিমের সাবধান হওয়া জরুরী, যেমন কিছু মুসলিম আল্লাহর সম্মানিত ঘরের হজ
করে থাকে, অথচ সে তার চেয়েও বড় বস্তু পরিত্যাগ করে থাকে। তাদের মধ্যে কেউ ফরয সালাতই আদায় করে না, নিঃসন্দেহে তার হজ হয় না। কারণ সে সালাত পরিত্যাগকারী।
আর সালাত পরিত্যাগকারী সম্পর্কে কঠোর সাবধানাবাণী ও ধমকি এসেছে, মহান আল্লাহ বলেন,
﴿ ﻣَﺎ ﺳَﻠَﻜَﻜُﻢۡ ﻓِﻲ ﺳَﻘَﺮَ ٤٢ ﻗَﺎﻟُﻮﺍْ ﻟَﻢۡ ﻧَﻚُ ﻣِﻦَ ﭐﻟۡﻤُﺼَﻠِّﻴﻦَ ٤٣ ﴾ [ﺍﻟﻤﺪﺛﺮ :
٤٢، ٤٣ ]
“ ‘তোমাদেরকে কিসে ‘সাকার’-এ নিক্ষেপ করেছে?’ তারা বলবে, ‘আমরা সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না”।[5]
মহান আল্লাহ আরও বলেন,
﴿ ﻓَﺈِﻥ ﺗَﺎﺑُﻮﺍْ ﻭَﺃَﻗَﺎﻣُﻮﺍْ ﭐﻟﺼَّﻠَﻮٰﺓَ ﻭَﺀَﺍﺗَﻮُﺍْ ﭐﻟﺰَّﻛَﻮٰﺓَ ﻓَﺈِﺧۡﻮَٰﻧُﻜُﻢۡ ﻓِﻲ ﭐﻟﺪِّﻳﻦِۗ
ﻭَﻧُﻔَﺼِّﻞُ ﭐﻟۡﺄٓﻳَٰﺖِ ﻟِﻘَﻮۡﻡٖ ﻳَﻌۡﻠَﻤُﻮﻥَ ١١ ﴾ [ﺍﻟﺘﻮﺑﺔ : ١١ ]
“অতএব তারা যদি তাওবাহ্ করে, সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয়, তবে দ্বীনের মধ্যে তারা তোমাদের ভাই”।[6]আরও বলেন,
﴿ ﻓَﺈِﻥ ﺗَﺎﺑُﻮﺍْ ﻭَﺃَﻗَﺎﻣُﻮﺍْ ﭐﻟﺼَّﻠَﻮٰﺓَ ﻭَﺀَﺍﺗَﻮُﺍْ ﭐﻟﺰَّﻛَﻮٰﺓَ ﻓَﺨَﻠُّﻮﺍْ ﺳَﺒِﻴﻠَﻬُﻢۡۚ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ
ﻏَﻔُﻮﺭٞ ﺭَّﺣِﻴﻢٞ ٥ ﴾ [ ﺍﻟﺘﻮﺑﺔ : ٥ ]
“কিন্তু যদি তারা তাওবাহ্ করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত দেয়[7] তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও”।[8]তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
« ﺇﻥ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻭﺑﻴﻦ ﺍﻟﺸﺮﻙ ﻭﺍﻟﻜﻔﺮ ﺗﺮﻙ ﺍﻟﺼﻼﺓ »
“নিশ্চয় একজন লোক এবং শির্ক ও কুফরীর মধ্যে সালাত পরিত্যাগ করাই মাপকাঠি।”
ইমাম মুসলিম জাবের রা. থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন[9]আর ইমাম তিরমিযী বুরাইদাহ রা. থেকে বর্ণনা করেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
« ﺍﻟﻌﻬﺪ ﺍﻟﺬﻱ ﺑﻴﻨﻨﺎ ﻭﺑﻴﻨﻬﻢ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻓﻤﻦ ﺗﺮﻛﻬﺎ ﻓﻘﺪ ﻛﻔﺮ »
“আমাদের মধ্যে ও কাফের-মুশরিকদের মধ্যে অঙ্গীকার হচ্ছে সালাতের; সুতরাং যে তা ত্যাগ করবে সে অবশ্যই কাফের হয়ে গেল”।[10]
তাছাড়া তিরমিযী তার গ্রন্থের কিতাবুল ঈমানে সহীহ সনদে প্রখ্যাত তাবে‘য়ী শাকীক ইবন আবদিল্লাহ রহ. থেকে বর্ণনা করেন,
‘মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ অন্যান্য আমলের মধ্যে কেবলমাত্র সালাত ত্যাগকরাকেই কুফরি হিসেবে গন্য করতেন’[11]।তাছাড়া এমন কিছু মানুষও রয়েছে যারা আল্লাহর সম্মানিত ঘরের
হজ করে কিন্তু তারা যাকাত দেয় না; অথচ মহান আল্লাহর কিতাবে যাকাতকে সালাতের সাথে একসাথে উল্লেখ করা হয়েছে,আর তোমরা সালাত কায়েম কর এবং যাকাত প্রদান কর”। [12]আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,আমি তো মানুষের সাথে যুদ্ধ করতে নির্দেশিত হয়েছি যতক্ষণ না তারা এ সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত
হক কোন মা‘বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, অতঃপর যখন তারা তা
করবে, তখন তারা তাদের রক্ত ও সম্পদ আমার হাত থেকে নিরাপদ পাবে, তবে ইসলামের অধিকার ব্যাপার ভিন্ন, আর
তাদের হিসাবের ভার আল্লাহর উপর”।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম ইবন উমর থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেন[13]।আর আবু বকর রা. যাকাত প্রদান করতে অস্বীকারকারীদের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন এবং তার সে বিখ্যাত বক্তব্যটি প্রদান করেছিলেন,“আল্লাহর শপথ, অবশ্যই আমি সালাত ও যাকাতের মধ্যে
পার্থক্যকারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব, আল্লাহর শপথ, যদি তারা আমাকে একটি উটের রশি অথবা উটের বাচ্ছা দিতেও অস্বীকার করে, যা তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে দিত, তবে অবশ্যই সেটা উদ্ধার করতে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।[14]”
অনুরূপভাবে কিছু মানুষ আছে যারা হজ্ করে কিন্তু রমযানের রোযা রাখেন না, অথচ রোযা হজের চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ; রোযা হজের আগে ফরয হয়েছে। এ সমস্ত লোক যারা হজ আদায় করে ইসলামের অন্যান্য রুকন নিয়ে
অবহেলা করে তারা যেন এমন শরীরের অঙ্গ নিয়ে ব্যস্ত থাকে যার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন।
একজন মুসলিমের উপর অবশ্য কর্তব্য হচ্ছে, সে তার দ্বীনের হেফাযত করবে, পূর্ণতার দিকে লক্ষ্য রাখবে,দ্বীনের কোন অংশ ছুটে যাওয়া কিংবা বাদ পড়ে যাওয়ার ব্যাপার যত্নবান হবে। সুতরাং সে যাবতীয় ওয়াজিব আদায়
করবে, নিষেধকৃত বিষয়াদি পরিত্যাগ করবে, আমৃত্যু আল্লাহর দ্বীনের উপর অবিচল ও দৃঢ় থাকবে। আল্লাহ বলেন,
﴿ ﺇِﻥَّ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍْ ﺭَﺑُّﻨَﺎ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﺛُﻢَّ ﭐﺳۡﺘَﻘَٰﻤُﻮﺍْ ﺗَﺘَﻨَﺰَّﻝُ ﻋَﻠَﻴۡﻬِﻢُ ﭐﻟۡﻤَﻠَٰٓﺌِﻜَﺔُ ﺃَﻟَّﺎ
ﺗَﺨَﺎﻓُﻮﺍْ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺤۡﺰَﻧُﻮﺍْ ﻭَﺃَﺑۡﺸِﺮُﻭﺍْ ﺑِﭑﻟۡﺠَﻨَّﺔِ ﭐﻟَّﺘِﻲ ﻛُﻨﺘُﻢۡ ﺗُﻮﻋَﺪُﻭﻥَ ٣٠
﴾ [ﻓﺼﻠﺖ : ٣٠ ]
“নিশ্চয় যারা বলে, ‘আমাদের রব আল্লাহ্’, তারপর অবিচলিত থাকে, তাদের কাছে নাযিল হয় ফেরেশ্তা (এ বলে) যে,তোমরা ভীত হয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তার জন্য আনন্দিত হও।”[15]আর হজের পর যে বিষয়টি বেশী গুরুত্বের দাবীদার, তা হচ্ছে একজন মুসলিম তার নিজের বিষয়টি বারবার দেখবে,
আত্মসমালোচনা করবে, পূর্বের কৃত আমলের ব্যাপারে নিজের হিসাব নিজে গ্রহণ করবে, তারপর নিজের জন্য এমন এক প্রোগ্রাম স্থাপন করবে যা সে প্রতিপালন করতে
পারে, যাতে করে সে হজের মাধ্যমে যে ঘরটি
বানিয়েছে তা পূর্ণ রূপ দিতে পারে।এসব কিছু এ জন্যই যে বান্দা হজের ফরয আদায় করার পর এবং এর জন্য আল্লাহর তাওফীক লাভের পর গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহের যথাযথ হেফাযত করবে।আমি মহান আল্লাহর কাছে কায়োমনোবাক্যে চাই তিনি যেন সবার হজ কবুল করেন এবং তাদের হজ মাবরুর (মাকবুল) করেন,তাদের প্রচেষ্টা সফল করেন এবং তাদের গুনাহ ক্ষমা করেন। আর আমি কথা, কাজে মহান আল্লাহর ইখলাস বা নিষ্ঠা
কামনা করি এবং সৃষ্টিকুলের সর্দার মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথের উপর চলার তৌফিক কামনা করি। আরও চাই তিনি
যেন এ কাজটি দুনিয়ার জীবন ও মৃত্যুর পরে জীবনের জন্য গচ্ছিত আমল হিসেবে গ্রহণ করেন, নিশ্চয় তিনি এর অভিভাবক এবং তা করতে সক্ষম। আর সালাত ও সালাম রইল আমাদের নবী মুহাম্মাদ ও তার পরিবার ও
সকল সাহাবীর প্রতি।তথ্যসূত্রঃ[1] সূরা আল-মায়েদাহ্: ২৭।[2] সূরা আল-হিজর: ৯৯।
[3] সূরা ত্বা-হা: ৮২।[4] সূরা আন-নাহল: ৯২।
[5] সূরা আল-মুদ্দাসসির: ৪২-৪৩।[6] সূরা আত-তাওবাহ: ১১।[7] ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘আমাকে ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলবে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ ও মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং সালাত কায়েম
করবে আর যাকাত প্রদান করবে। অতঃপর যদি তারা তা করে,তবে তাদের জান ও মাল আমার হাত থেকে নিরাপদ হবে, কিন্তু যদি ইসলামের অধিকার আদায় করতে হয়, তবে তা ভিন্ন কথা।
আর তাদের হিসাব নেয়ার ভার তো আল্লাহ্র উপর।’’ [বুখারী:২৫; মুসলিম: ২২][8] সূরা আত-তাওবাহ: ৫।[9] মুসলিম ১/৮৮, হাদীস নং ৮৮; ঈমান; সালাত পরিত্যাগকারীর উপর কুফর নামকরণ করা হয়েছে অধ্যায়; অনুরূপভাবে
হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে সংকলন করেছেন,(২/৬৩১; হাদীস নং ৪৬৭৮) কিতাবুল ঈমান, ইরজা তথা আমল না
করে আশাবাদী হওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যাত হওয়া অধ্যায়।[10] তিরমিযী; তুহফাতুল আহওয়াযী সহ (৭/৩০৮, নং ২৭৫৬);
কিতাবুল ঈমান এর ‘সালাত পরিত্যাগ করার ব্যাপারে যা এসেছে অধ্যায়ে।[11] তিরমিযী; তুহফাতুল আহওয়াযী সহ (৭/৩০৯, নং ২৭৫৭);কিতাবুল ঈমান এর ‘সালাত পরিত্যাগ করার ব্যাপারে যা এসেছে অধ্যায়ে।
[12] সূরা আল-বাকারাহ: ৪৩।[13] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ (১/৭৫, হাদীস নং ২৫), কিতাবুল ঈমান, ‘যদি তারা তাওবাহ করে এবং সালাত কায়েম করে অধ্যায়;মুসলিম (১/৫১; হাদীস নং ২২) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ না বলা পর্যন্ত
মানুষের সাথে যুদ্ধ করা অধ্যায়।[14] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ (১৩/২৫০, হাদীস নং ৭২৮৪),
কিতাবুল ই‘তিছাম; ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতকে অনুসরণ অধ্যায়; মুসলিম (১/৫১; হাদীস নং ৩২)
মানুষের সাথে যুদ্ধ করা অধ্যায়।[15] সূরা ফুসসিলাত: ৩০।লেখক : ড. ফালেহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন ফালেহ আস-সুগাইর
অনুবাদক : আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
সূত্র : ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ, সৌদিআরব

Qurbani Ke Masail (Complete Lecture) By Adv. Faiz Syed[3-4 days.see-41:43hrs]

https://youtu.be/jZkQL6q1N-I
https://youtu.be/jZkQL6q1N-I
[3 or 4 days of quarbani-see-41:43hrs/55:30]

Qurbani ke 55 Masail | Abu Zaid Zameer

CLICK ON PHOTO:-

https://youtu.be/ciG8qZ_LUFE
 https://youtu.be/ciG8qZ_LUFE

One sheep as a sacrifice on behalf of all of his family.


Narrated `Abdullah bin Hisham:
who was born during the lifetime of the Prophet () that his mother, Zainab bint Humaid had taken him to Allah's Messenger () and said, "O Allah's Messenger ()! Take his Pledge of allegiance (for Islam)." The Prophet () said, "He (`Abdullah bin Hisham) is a little child," and passed his hand over his head and invoked Allah for him. `Abdullah bin Hisham used to slaughter one sheep as a sacrifice on behalf of all of his family.
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ ـ هُوَ ابْنُ أَبِي أَيُّوبَ ـ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو عَقِيلٍ، زُهْرَةُ بْنُ مَعْبَدٍ عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هِشَامٍ، وَكَانَ، قَدْ أَدْرَكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَذَهَبَتْ بِهِ أُمُّهُ زَيْنَبُ ابْنَةُ حُمَيْدٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ بَايِعْهُ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ هُوَ صَغِيرٌ ‏"‏ فَمَسَحَ رَأْسَهُ وَدَعَا لَهُ، وَكَانَ يُضَحِّي بِالشَّاةِ الْوَاحِدَةِ عَنْ جَمِيعِ أَهْلِهِ‏.‏
Reference
 : Sahih al-Bukhari 7210
In-book reference
 : Book 93, Hadith 70
USC-MSA web (English) reference
 : Vol. 9, Book 89, Hadith 317
  (deprecated numbering scheme)


[http://sunnah.com/bukhari/93]
++++++++++++++++++++++++++
Narrated 'Ata bin Yasar:
"I asked Abu Abyub [Al-Ansari] how the slaughtering was done during the time of the Messenger of Allah (). He said: A' man would sacrifice a sheep for himself and the people in his household. They would eat from it and feed others, until the people (later) would boast about it and it became as you see now."

Grade
: Sahih (Darussalam)

Reference
 : Jami` at-Tirmidhi 1505

In-book reference
 : Book 19, Hadith 16

English translation
 : Vol. 1, Book 17, Hadith 1505

[http://sunnah.com/tirmidhi/19]
+++++++++++++++++++++++++











        

There is a big confusion regarding the 3 or 4 days : there are four days of sacrifice


How many days qurbani is allowed in eid-ul-adha?


There is a big confusion regarding the  3 or 4 days.

The time for offering the sacrifice begins after the Eid prayer on Eid al-Adha and ends when the sun sets on the thirteenth of Dhu’l-Hijjah. So there are four days of sacrifice: the day of Eid al-Adha and the three days after it.


Ibn al-Qayyim (may Allaah have mercy on him) said in Zaad al-Ma’aad (2/319): 
‘Ali ibn Abi Taalib (may Allaah have mercy on him) said: “The days of sacrifice are the Day of Sacrifice (yawm al-nahr) and the three days after it.”
The three days are specified because they are the days of Mina, the days of stoning (the Jamaraat) and the day of al-Tashreeq. It is forbidden to fast on these days. It was narrated via two isnaads, one of which supports the other, that the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said: “All of Mina is the place of sacrifice, and all the days of al-tashreeq are days of sacrifice.”
[Reported in Ibn Majah , Ahmad, Baihaqi and the hadeeth was classed as saheeh by al-Albaani in al-Silsilah al-Saheehah, 2476]

Shaykh Ibn ‘Uthaymeen said in Ahkaam al-Udhiyah, concerning the time for offering the sacrifice: 
It is from after the Eid prayer on the Day of Sacrifice until the sun sets on the last of the days of al-tashreeq, which is the thirteenth of Dhu’l-Hijjah. So there are four days of sacrifice: the day of Eid after the prayer, and three days after that.
It is permissible to offer the sacrifice during that time by night or by day, but it is better during the day

Thursday, 24 September 2015

ঈদুল আযহার সংক্ষিপ্ত কিছু আদব ও আহকাম

ঈদ মুবারাক।
ঈদুল আযহার সংক্ষিপ্ত কিছু আদব ও আহকাম :
১. তাকবীর : আরাফার দিনের ফজর থেকে শুরু করে
তাশরীকের দিনের শেষ পর্যন্ত, তথা জিলহজ মাসের
তের তারিখের আসর পর্যন্ত তাকবীর বলা। আল্লাহ
তাআলা
বলেন :
আর তোমরা আল্লাহকে স্মরণ কর নির্দিষ্ট দিনসমূহে।
(বাকারা
: ২০৩)
তাকবীর বলার পদ্ধতি :
” ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻛﺒﺮ، ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻛﺒﺮ، ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺃﻛﺒﺮ، ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻛﺒﺮ ﻭﻟﻠﻪ ﺍﻟﺤﻤﺪ “
আল্লাহর যিকির বুলন্দ ও সর্বত্র ব্যাপক করার নিয়তে
পুরুষদের
জন্য মসজিদে, বাজারে, বাড়িতে ও সালাতের
পশ্চাতে উচ্চ
স্বরে তাকবীর পাঠ করা সুন্নত।
২. কুরবানী করা : ঈদের দিন ঈদের সালাতের পর
কুরবানী
করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন :
যে ব্যক্তি ঈদের আগে যবেহ করল, তার উচিত তার
জায়গায়
আরেকটি কুরবানী করা। আর যে এখনো কুরবানী
করেনি,
তার উচিত এখন কুরবানী করা। (বুখারী ও মুসলিম)
কুরবানী
করার সময় চার দিন। অর্থাৎ নহরের দিন এবং তার
পরবর্তী
তাশরীকের তিন দিন। যেহেতু রাসূলূল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
তাশরীকের দিন কুরবানীর দিন। (সহীহ হাদীস সমগ্র :
২৪৬৭)
৩. পুরুষদের জন্য গোসল করা ও সুগন্ধি মাখা : সুন্দর
কাপড়
পরিধান করা, ঢাকনার নিচে কাপড় পরিধান না করা,
কাপড়ের
ক্ষেত্রে অপচয় না করা। দাঁড়ি না মুণ্ডানো, এটা
হারাম।
নারীদের জন্য ঈদগাহে যাওয়া বৈধ, তবে আতর ও
সৌন্দর্য
প্রদর্শন পরিহার করে। মুসলিম নারীদের জন্য কখনো
শোভা পায় না যে, সে আল্লাহর ইবাদাতের জন্য
তাঁরই গুনাতে
লিপ্ত হয়ে ধর্মীয় কোন ইবাদাতে অংশ গ্রহণ করবে।
যেমন সৌন্দর্য প্রদর্শন, সুসগন্ধি ব্যবহার ইত্যাদি করে
ঈদগাহে উপস্থিত হওয়া।
৪. কুরবানীর গোস্ত ভক্ষণ করা। ঈদুল আজহার দিন
রাসূলূল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খানা খেতেন না,
যতক্ষণ না তিনি
ঈদগাহ থেকে ফিরে আসতেন, অতঃপর তিনি কুরবানী
গোস্ত থেকে ভক্ষণ করতেন।
৫. সম্ভব হলে ঈদগাহে হেঁটে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া :
ঈদগাহতেই সালাত আদায় করা সুন্নত। তবে বৃষ্টি বা
অন্য কোন
কারণে মসজিদে পড়া বৈধ, যেহেতু রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পড়েছেন।
৬. মুসলমানদের সাথে সালাত আদায় করা এবং খুতবায়
অংশ গ্রহণ
করা : উলামায়ে কেরামদের প্রসিদ্ধ ও বিশুদ্ধ মত
হচ্ছে,
ঈদের সালাত ওয়াযিব। এটাই ইবনে তাইমিয়া
বলেছেন, যেমন
আল্লাহ তাআলা বলেন :
অতএব তোমরা রবের উদ্দেশ্যেই সালাত পড় এবং নহর
কর।
(কাউসার : ২)
উপযুক্ত কোন কারণ ছাড়া ঈদের সালাতের ওয়াজিব
রহিত হবে
না। মুসলমানদের সাথে নারীরাও ঈদের সালাতে
হাজির হবে।
এমনকি ঋতুবতী নারী ও যবতী মেয়েরা। তবে ঋতুবতী
নারীরা ঈদগাহ থেকে দূরে অবস্থান করবে।
৭. রাস্তা পরিবর্তন করা : এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে
যাওয়া ও অপর
রাস্তা দিয়ে ঈদগাহ থেকে বাড়ি ফেরা মুস্তাহাব।
যেহেতু তা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম
করেছেন।
৮. ঈদের সুভেচ্ছা জানানো : ঈদের দিন একে অপরকে
সুভেচ্ছা বিনিময় করা : যেমন বলা :
ﺗﻘﺒﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﻨﺎ ﻭﻣﻨﻜﻢ. ﺃﻭ ﺗﻘﺒﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﻨﺎ ﻭﻣﻨﻜﻢ ﺻﺎﻟﺢ ﺍﻷﻋﻤﺎﻝ .
অর্থ : আল্লাহ আমাদের থেকে ও তোমাদের থেকে
নেকআমলসমূহ কবুল করুন। বা এ ধরণের অন্য কিছু বলা।
এ দিনগুলোতে সাধারণ ঘটে যাওয়া কিছু বেদআত ও
ভুল
ভ্রান্তি থেকে সকলের সতর্ক থাকা জরুরী : যেমন :
১. সম্মিলিত তাকবীর বলা : এক আওয়াজে অথবা
একজনের
বলার পর সকলের সমস্বরে বলা থেকে বিরত থাকা।
২. ঈদের দিন হারাম জিনিসে লিপ্ত হওয়া : গান
শোনা, ফিল্ম
দেখা, বেগানা নারী-পুরুষের সাথে মেলামেশা করা
ইত্যাদি
পরিত্যাগ করা।
৩. কুরবানী করার পূর্বে চুল, নখ ইত্যাদি কর্তন করা।
রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানী
দাতাকে জিলহজ মাসের
আরম্ভ থেকে কুরবানী করা পর্যন্ত তা থেকে বিরত
থাকতে বলেছেন।
৪. অবপচয় ও সীমালঙ্ঘন করা : এমন খরচ করা, যার
পিছনে
কোন উদ্দেশ্য নেই, যার কোন ফায়দা নেই, আর না
আছে যার কোন উপকার। আল্লাহ তাআলা বলেছেন :
আর তোমরা অপচয় করো না। নিশ্চয় তিনি
অপচয়কারীদেরকে ভালবাসেন না। (আনআম : ১৪১)
করবানীর বৈধতা ও তার কতক বিধান :
কুরবানীর অনুমোদনের ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা
বলেন।
অতএব তোমরা রবের উদ্দেশ্যেই সালাত পড় এবং নহর
কর।
(কাউসার : ২)
তিনি আরো বলেন :
আর কুরবানীর উটকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর
অন্যতম নিদর্শন বানিয়েছি। (হজ : ৩৬)
কুরবানী সুন্নতে মুয়াক্কাদা। সামর্থ থাকা সত্বে তা
ত্যাগ করা
মাকরুহ। আনাস রাদিআল্লাহু আনহুর হাদীসে রয়েছে,
যা
বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। তারা বলেন :
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
তরতাজা ও শিং ওয়ালা দুটি
মেষ নিজ হাতে যবেহ করেছেন এবং তিনি তাতে
বিসমিল্লাহ
ও তাকবীর বলেছেন।
কুরবানীর পশু : উঠ, গরু ও বকরী ছাড়া কুরবানী শুদ্ধ নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
যাতে তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে,
যেসমস্ত জন্তু
তিনি রিয্ক হিসেবে দিয়েছেন তার উপর। (হজ : ৩৪)
কুরবানী শুদ্ধ হওয়ার জন্য ত্রুটি মুক্ত পশু হওয়া জরুরী :
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লাম
বলেছেন : কুরবানীর
পশুতে চারটি দোষ সহনীয় নয় : স্পষ্ট কানা, স্পষ্ট
অসুস্থ্য,
হাড্ডিসার ও ল্যাংড়া পশু। (তিরমিযী : কিতাবুল হজ :
৩৪)
যবেহ করার সময় : ঈদের সালাতের পর কুরবানীর সময়
শুরু
হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন :
যে সালাতের পূর্বে যবেহ করল, সে নিজের জন্য যবেহ
করল। আর যে খুতবা ও ঈদের সালাতের পর কুরবানী
করল,
সে তার কুরবানী ও সুন্নত পূর্ণ করল। (বুখারী ও মুসলিম)
যে সুন্দর করে যবেহ করার ক্ষমতা রাখে তার উচিত
নিজ
হাতে কুরবানী করা। কুরবানীর সময় বলবে :
ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺃﻛﺒﺮ، ﺍﻟﻠﻬﻢ ﻫﺬﺍ ﻋﻦ ﻓﻼﻥ
কুরবানীকারী নিজের নাম বলবে অথবা যার পক্ষ
থেকে
করবানী করা হচ্ছে তার নাম বলবে । যেমন রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
{ ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺃﻛﺒﺮ، ﺍﻟﻠﻬﻢ ﻫﺬﺍ ﻋﻨﻲ ﻭﻋﻦ ﻣﻦ ﻟﻢ ﻳُﻀﺢ ﻣﻦ ﺃﻣﺘﻲ }
[ ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﻭﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ] ،
বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার; হে আল্লাহ, এটা
আমার পক্ষ
থেকে এবং আমার উম্মতের মধ্যে যারা কুরবানী
করেনি,
তাদের পক্ষ থেকে। (আবূদাউদ ও তিরমিযী)
কুরবানীর গোস্ত ভণ্টন করা : কুরবানী পেশকারী
ব্যক্তির
জন্য সুন্নত হচ্ছে কুরবানীর গোস্ত নিজে খাওয়া,
আত্মীয় ও প্র্রতিবেশীদের হাদিয়া দেয়া এবং
গরীবদের
সদকা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন :
অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং দুস্থ-দরিদ্রকে
থেকে
দাও। (হজ : ২৮)
তিনি আরো বলেন :
তখন তা থেকে খাও। যে অভাবী, মানুষের কাছে হাত
পাতে না এবং যে অভাবী চেয়ে বেড়ায়-তাদেরকে
খেতে দাও। (হজ : ৩৬)
পূর্বসূরীদের অনেকের পছন্দ হচ্ছে, কুরবানীর
গোস্ত তিনভাগে ভাগ করা। এক তৃতীয়াংশ নিজের
জন্য রাখা।
এক তৃতীয়াংশ ধনীদের হাদীয়া দেয়া। এক তৃতীয়াংশ
ফকীরদের জন্য সদকা করা। পারিশ্রমিক হিসেবে
এখান
থেকে কসাই বা মজদুরদের কোন অংশ প্রদান করা
যাবে না।
কুরবানী পেশকারী যা থেকে বিরত থাকবে : যখন
কেউ
কুরবানী পেশ করার ইচ্ছা করে আর জিলহজ মাস
প্রবেশ
করে, তার জন্য চুল, নখ অথবা চামড়ার কোন অংশ
কাটা হারাম,
যতক্ষণ না কুরবানী করে। উম্মে সালমার হাদীসে
রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
{ ﺇﺫﺍ ﺩﺧﻠﺖ ﺍﻟﻌﺸﺮ ﻭﺃﺭﺍﺩ ﺃﺣﺪﻛﻢ ﺃﻥ ﻳﻀﺤﻲ ﻓﻠﻴﻤﺴﻚ ﻋﻦ ﺷﻌﺮﻩ
ﻭﺃﻇﻔﺎﺭﻩ } [ ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺣﻤﺪ ﻭﻣﺴﻠﻢ] ، ﻭﻓﻲ ﻟﻔﻆ : { ﻓﻼ ﻳﻤﺲ ﻣﻦ ﺷﻌﺮﻩ
ﻭﻻ ﺑﺸﺮﻩ ﺷﻴﺌﺎً ﺣﺘﻰ ﻳﻀﺤﻲ }
যখন জিলহজ মাসের দশ দিন প্রবেশ করে এবং
তোমাদের
কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা করে, সে তখন থেকে চুল ও
নখ কর্তন থেকে বিরত থাকবে। ইতিপূর্বে যা কর্তন
করেছে, সে জন্য তার কোন গুনা হবে না।
কুরবানী দাতার পরিবারের লোক জনের নখ, চুল
ইত্যাদি
কাঁটাতে কোন সমস্যা নেই।
কোন কুরবানী দাতা যদি তার চুল, নখ অথবা চামড়ার
কোন অংশ
কেঁটে ফেলে, তার জন্য উচিত তাওবা করা,
পুনরাবৃত্তি না করা,
তবে এ জন্য কোন কাফ্ফারা নেই এবং এ জন্য
কুরবানীতে
কোন সমস্যা হবে না। আর যদি ভুলে, অথবা না জানার
কারণে
অথবা অনিচ্ছাসত্বে কোন চুল পড়ে যায়, তার কোন
গুনা
হবে না। আর যদি সে কোন কারণে তা করতে বাধ্য হয়,
তাও
তার জন্য জায়েয, এ জন্য তার কোন কিছু প্রদান
করতে
হবে না। যেমন নখ ভেঙ্গে গেল, ভাঙ্গা নখ তাকে কষ্ট
দিচ্ছে, সে তা কর্তন করতে পারবে, তদ্রূপ কারো চুল
বেশী লম্বা হয়ে চোখের উপর চলে আসছে, সেও
চুল কাঁটতে পারবে অথবা কোন চিকিৎসার জন্যও চুল
ফেলতে পারবে।
মুসলিম ভাইদের প্রতি আহব্বান : আপনারা উপরে
বর্ণিত
নেকআমল ছাড়াও অন্যান্য নেকআমলের প্রতি যত্নশীল
হোন। যেমন আত্মীয় স্বজনদের সাথে দেখা-সাক্ষাত
করা, হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করা, একে অপরকে
মহব্বত করা এবং
গরীব ও ফকীরদের উপর মেহেরবান হওয়া এবং তাদের
আনন্দ দেয়া ইত্যাদি।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি আমাদেরকে তাঁর
পছন্দনীয়
কথা, কাজ ও আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।